বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশ অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। কিন্তু বাংলাদেশের সামগ্রিক দারিদ্র্য হার কমেছে, তবে কিছু জেলা দারিদ্র বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মানুষ অতি দরিদ্র নিয়ে জীবন যাপন করে। আজকে বাংলাদেশের ১০ টি জেলার তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।
বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় খুবই কম। তাছাড়া এদেশের মানুষ শ্রমিকের মজুরি খুবই কম। কেননা বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে দেশের সরকার তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ঠিক মতন করতে পারেন না।
বাংলাদেশের ১০ টি দরিদ্র জেলা তালিকা দেওয়া হলঃ
- কুড়িগ্রাম জেলা
- দিনাজপুর জেলা
- মাগুরা জেলা
- বান্দরবান জেলা
- খাগড়াছড়ি জেলা
- শরিয়তপুর জেলা
- লালমনিরহাট জেলা
- গাইবান্ধা জেলা
- নীলফামারী জেলা
- ঠাকুরগাঁও জেলা
বাংলাদেশের মোট ৬৪ টি জেলা অবস্থিত। এদেশের এখনো অধিকাংশ মানুষ দরিদ্রতা নিয়ে বিশেষ করে। কেননা বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করা এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের দরিদ্র জীবন জেলার মধ্যে এক নম্বর। কুড়িগ্রাম জেলা উত্তর পশ্চিম বাংলাদেশ রংপুর বিভাগের একটি জেলা। বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীয়া জেলার মধ্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রবাহিত হয়েছে।কেননা দেশের মোট ভূখণ্ডের তুলনায় পাহাড়-পর্বত নদী-নালা দ্বারা বেষ্টিত হয়ে আছে এই বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের ওপর দিয়ে বিভিন্ন নদী বয়ে গেছে। জেলা তথ্য অনুযায়ী, এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর সংখ্যা ১৬ টি। এরমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নদীর সংখ্যা পাঁচটি। এই জেলার দরিদ্র জনসংখ্যা অনেক বেশি।
এ জেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। কুড়িগ্রাম জেলা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক পিছিয়ে। তবে আশা করছি, খুব শীঘ্রই দরিদ্র দূর হবে এবং সমৃদ্ধি ফিরে আসবে।
দিনাজপুর জেলা
দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের দুই নম্বর দরিদ্র জেলা। দিনাজপুর জেলা উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি জেলা। দিনাজপুর সবচেয়ে সমতল বা পাহাড় পর্বত দ্বারা বেষ্টিত জেলা। অর্থনৈতিক সমস্যা অন্যতম কারণ। কেননা অর্থ ছাড়া কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্যদিকে এ জেলা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে।
আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের ১১ তম জেলা দিনাজপুর,এ জেলার মাথাপিছু আয় খুবই কম। দিনাজপুর জেলার জনসংখ্যা শতকরা ৭৫ জন মানুষ দরিদ্র। বাংলাদেশ যেভাবে ডিজিটাল হচ্ছে তাতে দিনাজপুর জেলা ডিজিটাল হতে পারিনি।
দিনাজপুর জেলা অর্থনৈতিকভাবে কারণ হলো এটি একটি প্রধান নদী জেলা।
এই জেলায় ১২ টির ও বেশি নদী রয়েছে। আশা করছি দিনাজপুর তাদের অর্থ মন্দা কাটিয়ে ধনীদের জেলার তালিকা অংশগ্রহণ করতে পারবে।
মাগুরা জেলা
বাংলাদেশ সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দরিদ্রতার মধ্যে মাগুরা জেলায় তিন নম্বরে রয়েছে। এ জেলা অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র নিয়ে বসবাস করে। অর্থনৈতিক মন্দা অন্যতম প্রধান কারণ। কেননা অর্থ ছাড়া কোন কোনভাবেই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই জেলা অর্থনৈতিকভাবে অন্যান্য জেলা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।এ জেলা যাতায়াত ব্যবস্থা খুব বেশি ভালো না। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
মাগুরায় কোন ও ট্রেন সংযোগ নেই, তবে মাগুরার মানুষ আশাবাদী যে খুব শিগগিরই তাদের এলাকায় ট্রেন চলবে। মাগুরা জেলা যেমন অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক পিছিয়ে, তেমনি মাগুরা জেলার ডিজিটাল অনেক পিছিয়ে পড়ছে। এই জেলার খুব কম মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এই জেলাকে কৃষিভিত্তিক জেলা বলা হয়।
এই জেলা শ্রমিক সংখ্যা খুবই কম। এ জেলাকে নদী ভিত্তিক জেলা ও বলা যেতে পারে। এই জেলায় ১৪ টির বেশি নদী প্রবাহিত হয়েছে। আশাকরি মাগুরা জেলার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। এবং বাংলাদেশের শীর্ষ জেলাগুলোতে অবস্থিত হবে।
বান্দরবান জেলা
বাংলাদেশের দরিদ্র জেলার মধ্যে বান্দরবান ৪ নম্বরে। বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা। এ জেলায় পাহাড় পর্বত অবস্থিত। এ জেলার মোট ভূখণ্ডের তুলনায় বন জঙ্গল, পাহাড় পর্বত নদী নালা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বান্দরবান জেলা।এদেশের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র তার নিচে বসবাস করে। কেননা এ জেলার যাতায়াত ব্যবস্থা খুব ভালো না।
এ জেলায় অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত। তেমন ভাল শিক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।অর্থনৈতিক দিক থেকে ও পিছিয়ে রয়েছে। এদেশের অধিকাংশ মানুষ খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান এবং তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারে না।
এ জেলায় শতকর.৭৫ মানুষ দরিদ্র, এই জেলার পরিবহন ব্যবস্থা ভালো নয়। বান্দরবান জেলায় যারা ধনী তাদের দরিদ্রদের সাহায্য করা উচিত এবং তাদের জেলাকে অর্থনৈতিক করে তোলার চেষ্টা করা উচিত।
খাগড়াছড়ি জেলা
বাংলাদেশের দরিদ্র জেলাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলা পাঁচ নম্বরে। খাগড়াছড়ি জেলার বাণিজ্যিক অবস্থা খুবই খারাপ। এই জেলাকে পার্বত্য জেলা ও বলা হয়। জায়গাটি খুবই দরিদ্র হলেও জেলায় ভ্রমণ করার জন্য অনেক সুন্দর জায়গা আছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ছোট পাহাড় এবং ঝর্ণা। খাগড়াছড়ি জেলা একটি প্রশাসনিক এলাকা যা বাংলাদেশের দক্ষিণ- পূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগ নিয়ে গঠিত। এ জেলায় শিক্ষার হার খুবই কম পরিসংখ্যান তথ্য অনুযায়ী এই জেলার সাক্ষরতার হার শতকরা ৪০জন।
বাংলাদেশের ডিজিটাল এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলা অনেক পিছিয়ে। এই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ কারণ চারদিকে শুধু পাহাড় আছে। এ জেলায় আপনি সব সেবা পাবেন না এই জেলা বসবাসের উপযোগী নয।
শরিয়তপুর জেলা
বাংলাদেশ দরিদ্রতম জেলার মধ্যে শরীয়তপুর জেলা ৬ নম্বরে। শরিয়তপুর জেলা ঢাকায় অবস্থিত হলেও এই জেলা খুবই দরিদ্র। মানুষ কষ্ট করে জীবন যাপন করে। জেলা টি বাংলাদেশের মাঝখানে অবস্থিত। এই জেলার দরিদ্র জেলা এই জেলার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র।
এর একটি কারণ জেলার কর্মসংস্থান খুবই কম। কর্মসংস্থানের অভাবে জেলার অধিকাংশ মানুষ সারাদিন বসে থাকতে হয়। এ জেলার মাথাপিছু আয় খুবই কম। কারণ জেলার শিক্ষিত মানুষ নেই।
পরিসংখ্যান তথ্য অনুযায়ী শতকরা ৪১ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত এবং বাকি ৫১ শতকরা মানুষ অশিক্ষিত। অতএব, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এই জেলার উপর শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া। কারণ শিক্ষা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। তাই এই জেলায় পাওয়া যায় না। জেলা অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুবই কম। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জন ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত, তাই বলা হয় যে এই জেলাটি ডিজিটালে অনেক পিছিয়ে।
লালমনিরহাট জেলা
লালমনিরহাট জেলা অবস্থান বাংলাদেশের দরিদ্রতম জেলার মধ্য সপ্তম। লালমনিরহাট জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি জেলা।এই জেলা অর্থনৈতিকভাবে অন্যসব জেলা থেকে পিছিয়ে আছে।অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র নিয়ে জীবন যাপন করে। দরিদ্রতার পেছনে অন্যতম কারণ হলো কর্মসংস্থানের অভাব। কর্মসংস্থান অভাবে অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাই আনানা
এটি বাংলাদেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা। বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের অভাব দরিদ্রতার অন্যতম কারণ। পরিসংখ্যান এর তথ্য অনুযায়ী ১০০ জলের মধ্যে মাত্র ২৫ জন চাকরি আছে। তাদের ছাড়া বাকি সবাই বেকারত্ব জীবনযাপন করছে। বাংলাদেশ অন্যান্য সব জেলা দিনদিন অগ্রসর হচ্ছে, কিন্তু লালমনিরহাট জেলা ডিজিটাল এবং উন্নতিতে পৌঁছাতে পারেনি।
গাইবান্ধা জেলা
নীলফামারী জেলা
নীলফামারী জেলা বাংলাদেশের দরিদ্র জেলার মধ্য নবম স্থানে রয়েছে। নীলফামারী জেলার দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী জেলায় শতকরা ৭৮ জন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।
ঠাকুরগাঁও জেলা
প্রয়োজনের অতি দরিদ্র জেলা ঠাকুরগাঁ। এ জেলায় বাংলাদেশে দরিদ্র জেলার মধ্যে দশম স্থানে রয়েছে। এই জেলার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। এ জেলায় যাতায়াত ব্যবস্থা খুব বেশি ভালো না। খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থান শিক্ষা ও চিকিৎসা বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে।এই জেলার ধনী মানুষের সংখ্যা খুবই কম।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই জেলার ৭৬ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ঠাকুরগা জেলার অর্থনীতি পতনের পিছনে অন্যতম কারণ হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিক্ষার অভাব এবং স্বাস্থ্য সমস্যা। কর্মসংস্থান বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ার জন্য জেলা পিছিয়ে পড়েছে।